বৈশ্বিক উষ্ণতা কী সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, আজকের আলচ্য বিষয় বৈশ্বিক উষ্ণতা কী? বৈশ্বিক উষ্ণতা হলো বিশ্বের বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, যা বিভিন্ন কারণে দিন দিন বেড়েই চলেছে। বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানির তাপমাত্রাও বেড়ে যাবে। বৈশ্বিক উষ্ণতার একটি বড় প্রমান হলো গ্রীষ্মকালে অনেক বেশি গরম উপলব্ধী করা।বৈশ্বিক উষ্ণতা কী সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিনএমনকি মাঝে মাঝে বায়ুমন্ডীয় তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়।বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে নানান ধরনের প্রভাব লক্ষ করা যায়। প্রিয় পাঠক, বৈশ্বিক উষ্ণতা কী  তা বিস্তারিত ভাবে নিচে আলোচনা করা হলো

বৃষ্টিপাত সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারনে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় যা বিভিন্ন কারণে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে এবং তার সাথে সাথে পানির তাপমাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে। প্রায় 100 বছর আগে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার প্রায় 1 0 সেলসিয়াসের কম ছিল।

 গত 100 বছরে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের গড় তাপমাত্রা 1 0 সেলসিয়াস বেড়েছে। তাপমাত্রা অল্প একটু বেড়ে গেলেই মেরু অঞ্চলসহ নানা জায়গায় সষ্ণিত বরফ গলতে শুরু করে। এ বরফ গলা পানি কোথায় যাবে? শেষ প্রর্যন্ত এই পানি সমুদ্রে গিয়েই পড়ে এর ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। ফলে পৃথিবীর যে সকল দেশ নিচু, সেগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।

পানির লবণাক্ততা

সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সমুদ্রের লবনাক্ত পানি নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, ভূগর্ভস্থ পানি আর
হৃদের পানিতে মিশে যায়। এক কথায় পানির সকল উৎসই লবণাক্ত হয়ে পড়ে। 

পানির সকল উৎস লবণাক্ত হলেকী কী অসুবিধা হবে?

প্রথমত পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রানীসমূহ মারত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তার কারণ, পানির তাপমাত্রা বাড়লে যে রকম পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, ঠিক সে রকম লবণাক্ততা বাড়লেও দ্রবীভূত অক্সিজেন অনেক কমে যাবে, যার ফলে
জলজ প্রানীরা আর বেঁচে থাকতে পারবে না। জলজ উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতেও পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

বৃষ্টিপাত

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরণে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এ সংক্রান্ত কম্পিউটার
মডেলিং থেকে ধারণা করা যায়, কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে, আবার কোনো কোনো এলাকায়, বিশেষ করে নাতিশীতোষ্ণে এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে খরা সৃষ্টি হয়, এমনকি বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতেও পরিণত হতে পারে।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আর ধরন পরিবর্তন হলে নদ-নদী, খাল-বিলে পানির পরিমাণ এবং প্রবাহ পরিবর্তিত হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কম্পিউটার মডেলিং থেকে এটাও অনুমান করা যায়, কোনো এলাকায় শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে, যা থেকে অসময়ে বন্যা হতে পারে।

বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব

বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতার একটি বড় প্রমান হলো, এখন গ্রীষ্মকালে অনেক বেশি গরম পড়ে, এমনকি মাঝে, মাঝে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা 47 0 সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায় যেটি আগে কখনো হয়নি। তাপমাত্রার উপাত্ত থেকে এটি অত্যান্ত স্পষ্ট যে গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল- দুই সময়েই তাপমাত্রা আগের তুলনায় বেশি থাকে। অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব স্পষ্টভাবেই বাংলাদেশের মিঠা পানিতে পড়ে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা বাড়লে পৃথিবীর সষ্ণিত বরফ গলতে শুরু করবে এবং সমুদ্রে পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। 

এর প্রভাব বাংলাদেশে অনেক বেশি তীব্র হবে, যার কারণে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বেড়ে আমাদের দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অংশ পানির নিচে চলে যেতে পারে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি দেশের অংশ বিশেষ যেমন:(মালদ্বীপ, ভারতের কিছু অংশ) বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পানির নিচে ডুবে গেছে এবং ঐ সকল দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টে গিয়ে নদ-নদীতে পানির প্রভাব আর গতিপথও পাল্টে যেতে পারে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

বাংলাদেশে পানিদূষণ প্রতিরোধের কৗশল এবং নাগরিকের দায়িত্বঃ

পানি কিভাবে দূষিত হয় আমরা মোটামুটিভাবে সেটা জেনেছি। পানিদূষন প্রতিরোধ করতে হলে দূষণের কারণগুলো জেনে তার প্রতিকারের ব্যবস্তা করাটাই হবে দূষণ প্রতিরোধের বড় কৌশল। পানি দূষণ প্রতিরোধে কী কী কৌশল অবলম্বন করা যায়, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ..
  • জলাভূমি রক্ষা করা
  • বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রন করা
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।

জলাভূমি রক্ষা করা

আজকাল আমাদের দেশে জলাভূমি ভরাট করে ঘর-বাড়ি, আবাসন এলাকা, শপিংমল ইত্যাদি তৈরি করা শুরু হয়েছে। এসব নিচু জলাভূমি পানি ধারণ করা ছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জলাভূমি একদিকে পানি ধারণ করে যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রন করে, অন্যদিকে তেমনি ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে , ভূগর্ভে পানি সষ্ণালনে সাহায্যে করে এবং একই সাথে বন্যাপ্রাণীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। 

এগুলো ধ্বংস হলে স্বাভাবিকভাবেই নদীর দূষণ বেড়ে যায়। জলাভূমি, বনভূমি রক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হলে পানির দূষণ অনেক খানি কমে যাবে। এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখতে পারে। এখন আমাদের দেশেও স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বৃক্ষরোপণ করে, জলাভূমি, হৃদ ও সমুদ্রের তীরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে পানির দূষন রোধে জনসচেতনামূলক কাজ করে যাচ্ছে-সেটি অনেক আশার কথা।

বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রন

শহরাষ্ণলে পানিদূষণের একটি বড় কারণ বৃষ্টির পানির প্রবাহ। শহরাষ্ণলের রাস্তাঘাটসহ বেশিরভাগ এলাকা পাকা হওয়ায় বৃষ্টি পানি এখন এর ভেতর দিয়ে ভূগের্তে যেতে পারে না। ফলে বৃষ্টির পানি যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা আর অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ নিয়ে নর্দমা আর নালা দিয়ে নদী, জলাশয় বা হৃদে গিয়ে সেখানকার পানিকে দূষিত করে। সম্ভব হলে বড় গর্ত ব খাল তৈরি করে সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে তা নিদিষ্ট ভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্তা করতে হবে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশে বা শহরে এ রকম পানি দূষিত থেকে রক্ষা করা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি

তোমরা কি বুঝতে পারছ যে শহরাষ্ণলে পানিদূষনকারী ক্ষতিকর বর্জ্যগুলো একটি অংশ আসে আমাদের বাসাবাড়ি থেকে? আমরা অ্যারোসল, পেইন্টস, পরিষ্কারক, কীটনাশক নানারকম ক্ষতিকর পদার্থ অহরহ ব্যবহার করি এবং ব্যবহারের পর অবিবেচকের মতো খালি কৌটা যেখানে-সেখানে ফেলে দিই বা রেখে দিই, যেগুলো একপর্যায়ে এসে পানি দূষন করে। এগুলো এভাবে না ফেলে আমরা যদি যথাযথভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলি, তাহলেও কিন্তু অনেক পানি দূষন কমে যাবে। 

এসব পদ্ধতিতে দূষন কমানোর জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য রেডিও- টেলিভিশনে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আর সতর্কবার্তা প্রচার করা যেতে পারে। অপ্রতুলতা এবং দূষন প্রতিরোধ বিষয়ে পোস্টার তৈরি করে মানুষকে সচেতন করা যায়। ইউরোপ আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।আমরা এভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যেমে পানি দূষন রোধ করতে পারি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url