ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

 বহুদিন ধরে চলতে থাকা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ আজ যেন বিরাট আকার ধারণ করেছে।বহুদিন ধরে নির্যাতিত হওয়া ফিলিস্তিনিরা আর যেন তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ।তারা আহত বাঘের মত পালটা আক্রমণ করতে শুরু করেছে।ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ

প্রিয় পাঠক, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ  সহকারে পড়ুন। চলুন আর দেরি না করে আলোচনা করা যাক।

সূচিপত্রঃ ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

  • ভূমিকা
  • ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ
  • ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের মূল কারণ
  • প্রথম ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরু হয় কত সালে
  • ইসরাইল ফিলিস্তিন যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা
  • শেষ কথা

ভূমিকা

আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে।ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের মূল কারণ, প্রথম ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরু হয় কত সালে,ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা, ইসরাইল ফিলিস্তিন ম্যাপ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ

ফিলিস্তিনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ২০০৬ সালে ফাতাহ হেরে যাওয়ার পর এবং হামাস যোদ্ধারা গাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সহিংসতা শুরু হয়। আর এই সংঘাতের ফলে ফিলিস্তিনের যৌথ সরকারের বিলুপ্ত ঘটে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের শাসন ভাগ হয়ে যায়। ফিলিস্তিনে দুই অংশ-পশ্চিম তীর ফাতাহ ও গাঁজা হামাসের শাসনে চলে যায়। 

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বিষয় অধ্যাপক নাথান ব্রাউন বিবিসি মুন্ডকে বলেছেন, হামাস এবং ফাতেহ,র মধ্যে ২০০৭ সালে সংঘাতে প্রচুর রক্তপাত হয়েছিল। তারপর থেকে তাদের মধ্যে আরো তিক্ততা বেড়ে যায়। আর তারপর থেকেই ফিলিস্তিনড় অঞ্চল এবং তাদের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন পথ অনুসরণ করেন। আর সেই সংঘাত এখন বিরাট আকার ধারণ করেছে।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের মূল কারণ

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বসবাসকারী ইউরোপে বসবাসকারী ইহুদি ও মুসলিম এদের দুজনের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। সেখান থেকেই জাওনিজম বা ইহুদীবাদী আন্দোলন শুরু হয়। ইহুদীদের লক্ষ্য ছিল ইউরোপের বাইরে কেবলমাত্র একটি তাদের রাষ্ট্র হবে।সেই সময় প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন ছিল তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। একটি মুসলিম , ইহুদি এবং খ্রিস্টান এই তিন ধরনের মানুষের কাছেই পবিত্র ভূমি হিসেবে বিবেচিত।

ইহুদিবাদী আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইউরোপীয় ইহুদীরা দলে দলে প্যালেস্টাইনে বসবাস শুরু করতে লাগলো। কিন্তু তাদের এই অধিবেশন স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। সে সময় আরব এবং মুসলিমরা ছিল সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্য কার্যত ভেঙে পড়ে। শেষ সময় লীগ অব নেশন নামের একটি সংস্থা গঠিত হয়েছিল।

সেই বিশ্ব সংস্থা পক্ষ থেকে বৃটেন কে 'ম্যন্ডেট' দেওয়া হয় প্যালেস্টাইন শাসন করার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আরব এবং ইহুদি উভয় পক্ষের কাছে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্যালেস্টাইন নিয়ে। কিন্তু বৃটেন এসব প্রতিশ্রুতি কিছুই রক্ষা করেননি। বরং তিনি মধ্যপ্রাচ্য তখন কার্যত ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছিলেন ফ্রান্স ও ব্রিটেন। প্যালেস্টাইনে তখন আরব জাতীয়তাবাদী এবং ইহুদিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত শুরু হয় ।ইহুদি এবং আরব মালেশিয়া গোষ্ঠীগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।

এইদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদীদের পরাজিত হওয়া ও লাখ লাখ ইহুদিদের মৃত্যু হয়। তারপর ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ বাড়তে থাকে। অন্যদিকে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা অঞ্চলকে তখন ফিলিস্তিন আর ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ১৯৪৮ সালের ১৪ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল। কিন্তু তারপরে মিশর, জর্দান, সিরিয়া এবং ইরাক অভিযান চালায় ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা অঞ্চলে।

আর প্রথম বারের মত সেটাই ছিল আরব ইসরায়েল যুদ্ধ। ইহুদিদের কাছে এটি স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।যুদ্ধের পর, জাতিসংঘ ফিলিস্তিনে আরব এবং ইহুদি উভয়কেই একটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলে আরবদের জন্য যে ভূমি থাকার কথা ছিল তার অর্ধেকই ইসরায়েল পেয়েছে।এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য খুবই দুঃখ জনক ছিল। একে বলা হয় 'নাকবা' বা বিপর্যয়। অনেক, অনেক ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল, প্রায় ৭৫০,০০০ মত ফিলিস্তিনি ।

তাদের কাছের অন্যান্য দেশে যেতে হয়েছিল কারণ একদল ইহুদি লোক তাদের চলে যেতে বাধ্য করেছিল। এটি ছিল আরব ও ইসরায়েলিদের মধ্যে প্রথম লড়াই। তারা সমস্যা এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য একে অপরের সাথে লড়াই চালিয়ে যাবে। এরপর শুরু হয় আরো উপর ইসরায়েল যুদ্ধ ১৯৬৭ সালে ৬ দিনব্যাপী এই যুদ্ধ হয়। ৫ই জুন হতে ১০ই জুন পর্যন্ত। আর এই যুদ্ধে যা ঘটেছিল তার প্রভাব পড়ে পরবর্তী সময়ে। এই যুদ্ধে ইসরাইল জয়ী হয়। তারা মিশরের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাঁজা এবং সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়। এবং সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করে গোলান মালভূমি।

সেই সাথে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় প্রায় ৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে। ১৯৭৩ সালে অক্টোবরের যুদ্ধে একদিকে ছিল সিরিয়া আর মিশর আর অন্য পক্ষে ছিল ইসরাইয়েল। মিশরের যুদ্ধে সিলাই অঞ্চলে থাকে কিছু হারানো জমি উদ্ধার করে। তবে গাঁজা বা গরম ভালোভাবে কেটে ইসরাইয়েলকে সরাতে পারেনি। কিন্তু এই যুদ্ধের প্রায় ছয় বছর পর ঘটলো মিশর ইসরায়েলের শান্তি চুক্তি। আর একই সাথে তাদের পথ অনুসরণ করলে জর্দান। কিন্তু এতে ফিলিস্তিনের কোন উন্নতি হলো না।

তাদের এই সংঘাত রয়ে গেল। গাজা ভূখণ্ড যেটি বহু দশক ধরে ইসরাইল দখল করে রেখেছিল। সেটি ১৯৯৪ সালে ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরিয়ে দেয় তারা। সেখানে বড় ধরনের লড়াই হয় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ২০০৮-২০০৯ ২০১২ এবং ২০১৪ সালে। আর এই যুদ্ধই বর্তমানে বিশাল আকার ধারণ করেছে।

প্রথম ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরু হয় কত সালে

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে আরব-ইসরায়েলি প্রথম আরব ইসরায়েল যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়। এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাত জমাউত স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে পরিচিত যা ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফিলিস্তিনি যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়। বলা হয় ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধই প্রথম ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরু।

ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ।ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের ১২ দিন হয়ে গেল। গত ৮ অক্টোবর হামাসের হামলার মধ্যে দিয়ে এই যুদ্ধের শুরু। হামাসের হামলার পর পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। এখনো এই যুদ্ধ চলছে, প্রতিদিন ঝরছে বহু মানুষের প্রাণ।ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।

গত ১৮ অক্টোবর বুধবার ব্রাইডেনের ইসরায়েল সফর করতে আসে। আর তিনি আসার আগের রাতেই ইসরায়েল হামলা চালায় ফিলিস্তিনের গাজায় হাসপাতালে এতে নারী শিশু সহ ৫০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আল আহলি, আল আরবি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৫০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

৭ অক্টোবর হামাস সিজনের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর পর ইহুদি রাষ্ট্রনৈতিক গাজার ওপর টানা নির্বিচারে বোমা ও বিবার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অব্যাহত হামলার কারণে গাঁজার নাগরিকদের গাজার নাগরিকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো তেমন কোন নিরাপদ জায়গা নেই। আরে এই ঘটনায় বিভিন্ন রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটাকে তীব্র নিন্দা জানাই।

ফিলিস্তিনি বংশোদুত সুইডিশ নাগরিক জামিল আবদুল্লাহ আল গাজা ছাড়তে চেষ্টা করছে। তিনি বলেন রাস্তায় মানুষের মরাদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভবনগুলো বসবাসকারী মানুষের উপর ধ্বসে পড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বুধবার তেল আবিবে এসেছিলেন।ইসরায়েল থেকে তার জর্ডানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে হামলার পর জর্ডানের বাদশা বৈঠক বাতিল করেছেন। আর বৈঠক বাতিল করার পাশাপাশি ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক বিবৃতিতে বলেছেন যা চলছে, সেটা গণহত্যা। এই গণহত্যা বন্ধে আমরা আন্তর্জাতিক সম্পদের প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধের পরিনতি খুবই ভয়াবহ। ইসরায়েলদের প্রতিনিয়ত এই হামলার ফলে ভারী হয়েছে গাজার বাতাস। তারা প্রতিদিনই ভয়ে থাকছে। তারা বলছে মৃত্যুকে কাছে নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। জানিনা কখন জানি মরে যাব। প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url